বিদেশি উদ্যোক্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে খুব বেশি বাধা ছাড়াই ব্যবসা বড় করার জন্য স্বাগত জানানো হয়। নিচের লেখায় যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানি গঠনের কিছু প্রয়োজনীয় ধাপ তুলে ধরা হবে।
অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন, কোনো বিনিয়োগকারী ভিসা বা রেসিডেন্স কার্ড পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে তার আগে একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
কোন অঙ্গরাজ্য এবং কোন ধরনের কোম্পানি বেছে নেওয়া উচিত?
বিনিয়োগকারীদের প্রথম যে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে তা হলো, আপনি যুক্তরাষ্ট্রের 50টি অঙ্গরাজ্যের কোনো একটিতে আপনার ব্যবসা নিবন্ধন করতে যাচ্ছেন; কেবল আমেরিকায় নয়। তাই কোম্পানি কোথায় প্রতিষ্ঠা করবেন তা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব নিয়ম/শর্ত এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রণোদনা রয়েছে। ব্যবসার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানি গঠনের নথিপত্র ও প্রক্রিয়া বেশ সহজ ও সংক্ষিপ্ত, তা যৌথ মূলধনী কোম্পানি (কর্পোরেশন) হোক বা সীমিত দায়সম্পন্ন কোম্পানি (LLC) হোক। তাই বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে একজন আইনজীবী খুঁজে নিতে পারেন অথবা অনলাইন আইনি ফাইলিং সেবার মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারেন। অনলাইন সেবার মাধ্যমে কোম্পানি শুরু করা আরও সাশ্রয়ী এবং বৈধতাও বজায় থাকে; তবে বিনিয়োগকারীর ব্যবসা সম্পর্কিত প্রশ্নের আরও বিস্তারিত ও স্পষ্ট উত্তর দেওয়ার জন্য একজন পরামর্শক রাখা উচিত।
কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য কোন অঙ্গরাজ্য বেছে নেবেন তা ঠিক করার সময় আপনার নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে আপনার আগে থেকেই অফিস বা ভৌত উপস্থিতি (বাসস্থান,…) থাকলে কোম্পানিটি সেই অঙ্গরাজ্যেই প্রতিষ্ঠা করা উচিত। পরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে এটি বিনিয়োগকারীদের অনেক সহায়তা করবে। বিপরীতে, বিনিয়োগকারীর যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ভৌত উপস্থিতি না থাকলে তিনি যেকোনো উপযুক্ত অঙ্গরাজ্যে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।
রেজিস্টার্ড এজেন্ট কী?
ব্যবসার পক্ষ থেকে আইনি কাগজপত্র ও নথি গ্রহণের জন্য একজন রেজিস্টার্ড এজেন্ট নিযুক্ত করা হয়। এসব নথির মধ্যে অঙ্গরাজ্যের নবায়ন বিজ্ঞপ্তি এবং মামলা-সংক্রান্ত কাগজপত্র অন্তর্ভুক্ত।
এজেন্টদের অবশ্যই সেই অঙ্গরাজ্যে অবস্থান করতে হবে, যেখানে বিনিয়োগকারীর কোম্পানি নিবন্ধিত। বিনিয়োগকারীরা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহজেই এই সেবা পেতে পারেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিনিয়োগকারীরা প্রতিনিধি এজেন্টের ঠিকানাকে কোম্পানির নিবন্ধিত ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন না। এজেন্ট এমন একটি সেবার মতো, যা নিশ্চিত করে যে ট্যাক্স, অঙ্গরাজ্যের ব্যবসা বা মামলা-সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি আপনার হাতছাড়া হবে না। যে অঙ্গরাজ্যে আপনি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করবেন, সেখানে সবসময় আপনাকে একজন রেজিস্টার্ড এজেন্টের ঠিকানা দিতে হবে।
মার্কিন কোম্পানির ট্যাক্স কোড কী?
বিনিয়োগকারীর কোম্পানিকে ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (IRS) দ্বারা শনাক্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়া সাধারণত নিয়োগকর্তা শনাক্তকরণ নম্বর (EIN) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেমন সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের জন্য আবেদন করা হয়।
বিদেশি ব্যবসার ক্ষেত্রে, যেসব ব্যক্তি মার্কিন ট্যাক্স দেন কিন্তু সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের সাধারণত একটি ব্যক্তিগত করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (ITIN) দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারী ব্যক্তিগত করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের (ITIN) জন্য আবেদন জমা দিতে ফর্ম W-7 ব্যবহার করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি কোম্পানির জন্য EIN অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন করতে কোম্পানির এটি ন্যূনতম শর্ত। তাই কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা উচিত যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সেবার মধ্যে ট্যাক্স কোড পেতে সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত কি না।
এ ছাড়া EIN ও ITIN একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মও, যা EIN, ITIN, কোম্পানি গঠন, মার্কিন ব্যবসায়িক ঠিকানা, মার্কিন ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মার্কিন সিম কার্ডের মতো সেবা দেয়। এতে আপনার কাগজপত্রের কাজ আগের চেয়ে অনেক সুবিধাজনক হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা শুরু করার সময় আপনার যা যা জানা ও করা প্রয়োজন, তার সবই এখানে রয়েছে।
এ বিষয়ে কোনো সহায়তা প্রয়োজন হলে অনুগ্রহ করে আমাদের 1-302-867-0778 নম্বরে কল করুন, অথবা info@ein-itin.com ঠিকানায় ই-মেইল করুন